চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) চক্রে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। চার ম্যাচে দুটি জয় ও একটি ড্রয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সামনে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কঠিন দুটি সিরিজ। এই চক্রে দেশের বাইরে বাংলাদেশের বাকি চারটি টেস্টই অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের টেস্ট দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও ভারসাম্য বিবেচনায় আশাবাদী সাবেক জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তার মতে, ঘরের মাঠে ধারাবাহিকতার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও ভালো ফল করতে পারলে চলমান চক্রে বাংলাদেশ শীর্ষ দুই বা তিনে জায়গা করে নিতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটে কর্মরত সালাহউদ্দিন গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের দায়িত্ব ও লক্ষ্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাই দলটির ভালো করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট দল নিয়ে আমি সবসময় আশাবাদী। যারা টেস্ট খেলে, তারা নিজেদের সম্পর্কে সচেতন এবং লক্ষ্যটাও ভালোভাবে জানে। অন্যদের তুলনায় তারা অনেক বেশি গোছানো। তাই এই দলের ভালো না করার কোনো কারণ দেখি না।’
ডব্লিউটিসির চলমান চক্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, বিদেশের মাটিতে বাকি চার টেস্ট থেকে ভালো ফলের পাশাপাশি দেশের ম্যাচগুলোতেও জয় ধরে রাখতে পারলে শীর্ষ তিনে থাকার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।
তবে সেই লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেই পয়েন্ট নিয়ে ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত একটি ড্রও বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান হতে পারে। প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চোটের কারণে নিয়মিত পেসার নাহিদ রানা ছিটকে গেছেন। চোট কাটিয়ে প্রথম টেস্টের দলে থাকলেও লিটন দাসের খেলা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তবে লিটনকে আগেভাগে অস্ট্রেলিয়ায় দলের সঙ্গে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সালাহউদ্দিন। তার মতে, এতে লিটন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বাড়তি সময় পাবেন এবং অনুশীলন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে সেটি তার জন্য আরও কার্যকর হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, অভিজ্ঞতা কখনো হারিয়ে যায় না। লিটন আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ায় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পাবেন। প্রায় ৪৫ দিন ম্যাচ না খেলার পর সরাসরি টেস্টে নামার চেয়ে অনুশীলন ম্যাচ খেলা তার জন্য বেশি উপকারী হবে।
নাহিদ রানাকে না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও দলে থাকা অন্য বোলারদের নিয়ে আশাবাদী সালাহউদ্দিন। তার মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বোলিং করতে পারলে বাংলাদেশের বোলাররাও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন।
তিনি বলেন, নাহিদ রানার বোলিং, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বিপক্ষে তার বাউন্সার কেমন কার্যকর হয়, তা দেখার জন্য তিনি আগ্রহী ছিলেন। তবে তার অনুপস্থিতিতে হতাশ না হয়ে দলের অন্য বোলারদের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

