দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাসের তীব্র সংকট ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী শিল্পগোষ্ঠী ডিবিএল গ্রুপ তাদের গাজীপুরের সব তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ডিবিএল গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, গাজীপুরে অবস্থিত গ্রুপটির সব পোশাক কারখানা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। তবে গত কয়েক মাস ধরে গ্যাসের স্বল্পচাপ এবং বিদ্যুতের ঘনঘন বিপর্যয়ের কারণে কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম. এ. রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কয়েক মাস ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কারখানা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক চলছে।
তবে কারখানাগুলো কতদিন বন্ধ থাকবে, শ্রমিকদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিংবা কবে নাগাদ উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে পারে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ডিবিএল গ্রুপের মতো বড় রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান জ্বালানি সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট করেছে। দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোক্তারা অভিযোগ করে আসছেন, গ্যাসের স্বল্পচাপ ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে সময়মতো রপ্তানি পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করা ডিবিএল গ্রুপ বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি সিরামিক, ওষুধ, প্যাকেজিং, খুচরা ব্যবসা, ড্রেজিং ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা রয়েছে। গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত।
সর্বশেষ অর্থবছরে ডিবিএল গ্রুপ প্রায় ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ডের জন্যও উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে সি অ্যান্ড এ, এইচ অ্যান্ড এম, পুমা, জর্জ, এসপ্রিট, জি-স্টার, হুগো বস ও মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার।
অর্থনীতিবিদ ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের এমন সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের ওপর জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য বড় প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি করা না গেলে দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতে আরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

