জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। আজ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী অনড় থাকলেও কমিটিতে অংশ নেয়নি এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোট।
গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হলেও জামায়াত ও এনসিপির জোট কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। তবে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারের দাবি নিয়ে কমিটিতে অংশ নিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
সংসদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ কমিটি সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। প্রথম বৈঠকে কমিটির কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে। সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে সংবিধানসংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে নয়টি প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত আদেশ ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে অনুমোদিত হয়।
জামায়াতের দাবি, গণভোটে অনুমোদিত আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার কার্যকর করতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, সংশ্লিষ্ট আদেশটি অবৈধ ছিল। ফলে সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেছেন, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে। তাঁর দাবি, এ অবস্থায় সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অংশ নেওয়া অর্থহীন।

