ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের ৫৪নং বড়খারদিয়া দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে স্থানীয়দের অবাধ চলাচল, পাশেই মাদ্রাসা এবং ব্যস্ত সড়কের সংলগ্ন অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। ফলে বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষের পাশ দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় লোকজন চলাচল করছেন। পাশেই একটি মাদ্রাসা থাকায় বাইরে থেকে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সীমানাও স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। বিদ্যালয়টি প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় টিফিনের সময় ছোট শিক্ষার্থীদের অসতর্কভাবে সড়কে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালে প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তিনজন সহকারী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণেও নানা সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় ভবন ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের ছোটখাটো জিনিসপত্র ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এছাড়া বিদ্যালয়ের আঙিনায় লাগানো গাছও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ে কোনো দপ্তরী বা অফিস সহায়ক না থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজেও শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, সীমানা প্রাচীর না থাকায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে টিফিন ও ছুটির সময়ে শিশুরা কখন বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে সড়কে চলে যায়, তা নিয়ে সবসময় শঙ্কা থাকে। তারা দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এবাদত আলী খান বলেন, বিদ্যালয়টি সড়কসংলগ্ন হওয়ায় সীমানা প্রাচীর না থাকায় টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি নজর রাখতে হয়। কয়েকদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর এসে কখনো কখনো ছোটখাটো জিনিসপত্র ভাঙচুর অবস্থায় পাওয়া যায়। অতীতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি একজন দপ্তরী নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ অনেক সহজ হবে।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। বিদ্যালয়ের জমি সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ১৩৪ শিক্ষার্থীর নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও একজন দপ্তরী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

