সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ী এলাকায় চাঞ্চল্যকর তিন খুনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত রঙমিস্ত্রি বাবুল মিয়া আদালতে ভিন্ন জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার নতুন মোড় ঘুরিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার খাসকামরায় ১৮৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। পূর্বে পুলিশের কাছে দেওয়া প্রেমের সম্পর্কের তথ্য অস্বীকার করে এবার তিনি দাবি করেন, ঘর ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় তিনজনকে হত্যা করেন তিনি।
জবানবন্দিতে বাবুল মিয়া জানান, বাসায় পূর্বে রঙের কাজ করার সুবাদে সেখানে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। ঘটনার দিন সকালে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলে গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম তাঁকে দেখে চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তাহমিনাকে প্রথম আক্রমণ করেন। চিৎকার শুনে রান্নাঘর থেকে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও পরবর্তীতে গৃহকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁদেরকেও একে একে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। খুনের পর রক্ত ধুয়ে কক্ষে থাকা ১৫ হাজার টাকা নিয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে জানান বাবুল।
এর আগে গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলা থেকে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেলে আটকের পর বাবুল গৃহপরিচারিকার সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতার কথা বলেছিলেন। তবে আদালতের নতুন জবানবন্দির পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শিপলু চৌধুরী জানান, আসামি একা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো পক্ষ জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত চলছে।

