রাঙামাটিতে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। পরিষদগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণেরও সমালোচনা করেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ বন্ধ করার পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলকে স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ বিষয়ে একটি ‘ফ্যাসিবাদী গ্রুপ’ অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে দেশে ফেরা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্যসচিব মো. শোয়েব। এতে কেন্দ্রীয় নেতা সরোয়ার তুষারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
সরোয়ার তুষার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্তার নিজস্ব পরিচয়, সংস্কৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ করেন। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, কাপ্তাই লেকের সীমানা জরিপ করে এর ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী চার মাসের মধ্যে যৌথভাবে জরিপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

