ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলামকে (২০) কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। মাহিদার পরিবারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সমিতির নেতারা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এর আগেও ন্যক্কারজনক ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীরা দাঁড়াননি। শিশু মাহিদাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায়ও কোনো আইনজীবী জাহিদুল ইসলামের পক্ষে আইনি সহায়তা দেবেন না। একই সঙ্গে মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে আইনজীবীরা কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে নিহত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান।
পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরে জাহিদুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এদিকে, মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পঞ্চম আদালতে সে জবানবন্দি দেয় বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জবানবন্দিতে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে সাত বছরের শিশু মাহিদাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাহিদুলকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তার বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহিদা সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল হকের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে তার মরদেহ দাফন করা হয়। নিহত মাহিদা ও অভিযুক্ত জাহিদুল সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।

