রাজনীতিবিদদের সন্তানদের বিদেশে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার চর্চার তীব্র সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রাজনীতিকদের সন্তানদের সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের পরিবারের বৈষম্য তুলে ধরে তিনি তরুণদের অন্ধ রাজনৈতিক আনুগত্য থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণির সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
চিফ হুইপের বক্তব্যে তাঁর তিন ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং সেখানে ভালো চাকরি করে শান্তিতে বসবাস করছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম ও দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, দেশের রাজনীতিকেরা নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে দেশের মাটির ওপর ন্যূনতম আস্থাও রাখতে পারেন না। তাঁরা নিজেদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেন, অথচ দেশের সাধারণ পরিবারের সন্তানদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করেন।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ কর্মীরা নেতাদের পেছনে ঘুরতে গিয়ে নিজেদের মূল্যবান সময় ও জীবন নষ্ট করছেন। এতে তাঁদের পরিবারের প্রতিও দায়িত্ব পালনে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
রাজনীতিবিদদের সন্তানদের জীবনযাপনের সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের পরিবারের দুরবস্থার তুলনা করে হাসনাত লেখেন, অর্থের অভাবে অসহায় কর্মীর সন্তানকে চিকিৎসার জন্য চানখাঁরপুলের হাসপাতালে যেতে হয়। অন্যদিকে, একই সময়ে রাজনীতিকদের সন্তানেরা বিদেশে লিভারপুলের মতো জায়গায় স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করেন।
প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে।’ এ ধরনের আত্মঘাতী ও অন্ধ রাজনৈতিক চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হওয়ার জন্য সাধারণ তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

