কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ফেনীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু। জেলার চাহিদার তুলনায় এবার অতিরিক্ত রয়েছে ৭ হাজার ৯২৭টি পশু। খামারগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি। এতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার ৫ হাজারের বেশি খামারি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ফেনীর ৬ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৫৬৯টি, ছাগল ১৩ হাজার ২২৯টি, মহিষ ১ হাজার ৭৩৫টি এবং ভেড়া ৩ হাজার ৯১৯টি।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে সবচেয়ে বেশি পশু রয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলায়, যেখানে প্রস্তুত করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩৬০টি পশু। এরপর ফেনী সদর উপজেলায় রয়েছে ২২ হাজার ৪১৫টি পশু। এছাড়া সোনাগাজীতে ১৮ হাজার ৩৭৫টি, দাগনভূঞায় ৮ হাজার ৮৭৫টি, পরশুরামে ৮ হাজার ৩৭৮টি এবং ফুলগাজীতে ৮ হাজার ৪৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
এবার জেলার ৬ উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে বসছে ১২৯টি পশুর হাট। এর মধ্যে ১১৪টি অস্থায়ী এবং ১৫টি স্থায়ী হাট। পশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গঠন করেছে ৩৭টি মেডিকেল টিম।
জেলার ৫ হাজার ৪০৭টি খামারে এখন চলছে গবাদিপশুর নিবিড় পরিচর্যা। খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পশুর যত্নে সময় দিচ্ছেন। অনেকেই এবার ভালো লাভের আশা করছেন।
ফেনী সদর উপজেলার লস্করহাট এলাকার দমদমায় অবস্থিত আমান এগ্রোর পরিচালক রাফি উদ্দিন আহমেদ হামিম জানান, গত ১২ বছর ধরে তারা কোরবানিকে কেন্দ্র করে পশু মোটাতাজাকরণ করছেন। তাদের খামারে দেশীয় জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের গরু রয়েছে এবং প্রাকৃতিক খাদ্যে পশু লালন-পালন করা হয়।
হাসিনা এগ্রোর স্বত্বাধিকারী আরাফাত খান জানান, তিনি ৬০ থেকে ৭০টি গরু পালন করছেন। তবে খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার প্রতিটি গরুর পেছনে অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে। তার মতে, ছোট গরুর ক্ষেত্রে প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং বড় গরুর ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ হচ্ছে।
৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া পাচার ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও পাহারা জোরদার করা হবে।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, কোনো অবস্থাতেই সড়ক বা মহাসড়কের ওপর পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পশু বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং জাল টাকা প্রতিরোধে ব্যাংকের সহায়তায় প্রয়োজনীয় মেশিন রাখা হবে।

