কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সোলাইমানপুর এলাকায় সামাজিকমাধ্যমে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এসময় বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন হৃদয় (৩০), নৌরিন বেগম (৩২), পারভেজ মিয়া (৩০), সুবর্ণা বেগম (২৪), দুধ মিয়া (৩০), সাগর মিয়া (৩০), জনি মিয়া (২২), হাসান মিয়া (১৭), নাইম ইসলাম (২৪), জীবন মিয়া (২০), অপু মিয়া (২২), বাবুল মিয়া (৫০), হৃদয় মিয়া (২৫) ও ইমরান মিয়া (২৬)। তারা ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।
গুরুতর আহত পারভেজ মিয়া ও সুবর্ণা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পাবেল ও বিজয় নামে আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
ভৈরব থানার এসআই পাবেল মোল্লা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই বংশের মধু মুন্সি বাড়ি ও দিল মোহাম্মদের বাড়ির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব প্রবাসী আনোয়ারের সঙ্গে ফরহাদ মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ফরহাদ দেশে ফিরে এলে গত ৭ ও ৮ মে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন আহত হন।
পরবর্তীতে ১৩ মে স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসা করা হলেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার রাতে বাজারে গিয়ে বাদশা মেম্বার পক্ষকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে গালাগাল করা হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শনিবার সকালে বাদশা মেম্বার গ্রুপের লোকজন মেরাজ মেম্বার পক্ষের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়।
টেঁটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মেরাজ মেম্বার অভিযোগ করেন, বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাদশা মেম্বার পক্ষ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। অন্যদিকে বাদশা মেম্বার দাবি করেন, তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও গালাগালির প্রতিবাদ করতে গেলে তার পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়।
এসআই পাবেল মোল্লা বলেন, শুক্রবার রাতেই প্রথম দফার সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে শনিবার সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের মামলা হয়েছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নতুন সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

