ফরিদপুর সদর উপজেলায় পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক নারী ও তার তিন বছর বয়সী কন্যাশিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কথিত প্রেমিক উজ্জল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন মাঠ থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- জাহানারা বেগম (৩২) ও তার তিন বছর বয়সী কন্যা সামিয়া। জাহানারা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পরেশ উল্লাহ মাতবরপাড়ার আমজাদ হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, ঢাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় উজ্জল খানের সঙ্গে জাহানারার পরিচয় ও পরবর্তীতে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এলেও সম্পর্ক বজায় ছিল। সম্প্রতি জাহানারা বিয়ের জন্য উজ্জলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন।
গত ৪ মে জাহানারা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে উজ্জল তাকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে জাহানারাকে গলা চেপে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি দেখে চিৎকার করলে শিশু সামিয়াকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পর মা-মেয়ের মরদেহ গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত উজ্জল।
পুলিশ আরও জানায়, জাহানারা ও তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বামী আমজাদ হোসেন গোয়ালন্দ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের ১০ দিন পর স্থানীয়রা মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহের সন্ধান পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে জাহানারার বাবা লালন মোল্লা বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মোবাইল কললিস্ট ও বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকা থেকে উজ্জল খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

