ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, মূল্যায়নে বৈষম্য, শিক্ষার্থী হয়রানি ও ব্যক্তিগত আক্রোশের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব শেখ। তবে অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কয়েকজন দাবি করেছেন—তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং অভিযোগে তাদের নাম ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে রাকিব শেখ অধ্যাপক নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে পরীক্ষার মূল্যায়নে অনিয়ম, ফলাফলে বৈষম্য, ব্যক্তিগত আক্রোশ, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, হুমকি এবং একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ আনেন। পাশাপাশি তাকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার দাবি জানান।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী হিসেবে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের খন্দকার ইউসুফ আলী, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আল মামুন হাসান রাজু এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফারিয়া জান্নাত প্রমি ও ছাব্বির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়।
তবে ফারিয়া জান্নাত প্রমি বলেন, তিনি কখনো ওই অভিযোগ করেননি। তার দাবি, পূর্বের একটি সমস্যা পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সমাধান করে দিয়েছিলেন এবং এরপর তিনি আর কোনো অভিযোগ করেননি। এছাড়া তার অনুমতি ছাড়া মার্কশিট সংগ্রহ করে অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ছাব্বির হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অবগত নন। একই দাবি করেন আল মামুন হাসান রাজুও। তিনি বলেন, তাদের নাম ব্যবহার করে অভিযোগ করা হয়ে থাকলে সেটি সঠিক হয়নি। এমনকি আগে সমাধান হওয়া কিছু বিষয়ও তাদের নামে যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী রাকিব শেখ বলেন, অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমর্থনকারী নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষ্য, যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তা তাদের অনুমতি নিয়ে নয়; বরং ঘটনাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে নজির হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে, সেগুলোর অনেক বিষয় একাডেমিক কাউন্সিলে আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে। বিস্তারিত জানতে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন জানান, অনুমতি ছাড়া মার্কশিট উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের নাম-রোল ব্যবহার এবং গোপনীয় তথ্য সংযুক্ত করার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভাগীয় সভাপতির কাছে পৃথক আবেদন করেছেন। বিষয়টি বিভাগীয় একাডেমিক সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগপত্রে রাকিব শেখ আরও দাবি করেন, বিভাগের বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলন ও একাডেমিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন তার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। এর প্রভাব পরীক্ষার নম্বর প্রদানে পড়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষার্থীর ইন্টারনাল মূল্যায়ন, ক্লাস পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ এবং অতীতের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভাগের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবির পরও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে মূল্যায়নে বৈষম্যের ঘটনা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।

