২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচে এখন পর্যন্ত পোল্যান্ড, মিশর, রোমানিয়া, কানাডা, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের রেফারিরা দায়িত্ব পালন করেছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও ম্যাচ পরিচালনা করবেন পর্তুগালের একজন রেফারি। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিশ্বমানের দুই ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেলর ও মাইকেল অলিভার টুর্নামেন্টে দায়িত্বে থাকলেও আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ফিফার রেফারি নিয়োগ নীতিতে নিরপেক্ষতা ও সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত এড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াইকে সামনে রেখেও এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে মাইকেল অলিভার বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম ম্যাচ সম্পন্ন করেছেন, যা এবারের আসরে যে কোনো ব্রিটিশ রেফারির মধ্যে সর্বোচ্চ।
যদি কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে টেলর ও অলিভার—দুজনেরই সেমিফাইনালের ম্যাচ পরিচালনার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে। কারণ, একই দেশের দল অংশ নিলে সেই দেশের রেফারিকে দায়িত্ব না দেওয়াই ফিফার দীর্ঘদিনের নীতি।
এর পেছনে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিরোধ। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যার প্রভাব এখনো দুই দেশের সম্পর্ক ও ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিফলিত হয়।
এই ঐতিহাসিক বৈরিতা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই ম্যাচেই ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা করেন বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃত আরেকটি গোল। আত্মজীবনীতে ম্যারাডোনা লিখেছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে তিনি ফকল্যান্ড যুদ্ধের কথাই ভাবছিলেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ২০০২ সালে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জিতেছে ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে। এবারের বিশ্বকাপে দুই দলই যদি নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে সেমিফাইনালে ওঠে, তবে আটলান্টায় আরেকটি বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ের সাক্ষী হতে পারে ফুটবল বিশ্ব। সেই পরিস্থিতিতে ইংলিশ রেফারিদের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যাবে।

