ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে স্বামীর পরিবারের দাবি, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যার আগে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত সুমাইয়া শিমু শৈলমারী গ্রামের মোস্তফা শেখের মেয়ে এবং একই গ্রামের কাঠমিস্ত্রি জসিম কাজীর স্ত্রী। তাদের সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে জসিম কাজী ও সুমাইয়া পালিয়ে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় সে সময় সুমাইয়ার পরিবার অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছিল। পরে প্রায় দুই বছর আগে উভয় পরিবার তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক মেনে নেয়। তবে স্বামীর নেশাগ্রস্ততা, অনিয়মিত কাজ এবং সংসারে আর্থিক সংকট নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার প্রতিবেশীর একটি অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে সুমাইয়া ও তার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে দুপুরে সুমাইয়া তার সাত বছর বয়সী ছেলে মাহিরকে বড় বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সুমাইয়ার বড় বোন শাহিনুর তার স্বামী জসিমকে ফোন করেন। এ সময় জসিম খারাপ আচরণ করেন এবং সুমাইয়াকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন শাহিনুর। পরে সন্ধ্যার আগে জসিম ফোন করে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান।
সুমাইয়ার দুই বোন শাহিনুর ও সুরাইয়া দাবি করেন, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে সুমাইয়ার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাদের দাবি, ঘরের আড়ার উচ্চতা বিবেচনায় সুমাইয়ার পক্ষে সেখানে এভাবে ফাঁস নেওয়া সম্ভব নয়। ঘটনার পর জসিম ঘরে তালা দিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে জসিমের মা ছিয়ারন বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে জানতে পারেন তার ছেলের স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তার দাবি, তার ছেলে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না এবং সে নির্দোষ।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

