নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আর্ট সংগঠন ‘চিত্রকৃৎ’-এর সংরক্ষিত রং, তুলি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি চিত্রকৃৎ-এর ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
চিত্রকৃৎ-এর সদস্যদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে নোবিপ্রবির বিভিন্ন গ্রাফিতি, আলপনা, গোলচত্বর, অডিটোরিয়ামসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তাদের শিল্পচর্চার মাধ্যমে নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে সংগঠনটির সদস্যরা নিয়মিতভাবে রং-তুলি দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করে আসছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজন শেষে ব্যবহৃত রং, তুলি ও অন্যান্য সামগ্রী অডিটোরিয়ামের সিঁড়ির নিচে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২২ জুলাই একটি কর্মশালার জন্য সরঞ্জাম আনতে গিয়ে সেগুলো সেখানে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে জানতে চাইলে সংরক্ষিত সামগ্রীগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কারও নির্দেশনাতেই এসব সরঞ্জাম ফেলে দেওয়া হয়েছে।
চিত্রকৃৎ-এর সভাপতি শান্তা দেবনাথ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রাফিতি, আলপনা ও দেয়ালচিত্রসহ নান্দনিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তাদের সংরক্ষিত সরঞ্জাম এভাবে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তারা হতাশ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে বিচার এবং হারিয়ে যাওয়া রং ও অন্যান্য সামগ্রীর যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংগঠনের সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থান বরাদ্দেরও দাবি জানান তিনি।
চিত্রকৃৎ-এর জনসংযোগ সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবা মিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটিকে সংগঠনটির সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, রং ও তুলিই চিত্রকৃৎ-এর প্রধান সম্পদ এবং এসব সরঞ্জামের মাধ্যমেই তারা ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সমৃদ্ধ করার কাজ করে থাকেন।
এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নোবিপ্রবি অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি রাজদীপ দাশ ও সাধারণ সম্পাদক সায়রা সাদিয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবির প্রক্টর এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত স্থানে কোনো সরঞ্জাম রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দেখা হবে। ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

