বর্তমান বিরোধী দলের নেতারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো ভাষায় কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যেভাবে ‘এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেব না’ কিংবা ‘পাঁচ বছর সরকার চালাতে দেব না’—এ ধরনের বক্তব্য দিতেন, বর্তমানে বিরোধী দলের নেতারাও একই ধরনের ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন।
‘সংস্কার’ নাকি ‘সংশোধন’—এ ধরনের শব্দগত বিতর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজপথে সংঘাতের পরিবর্তে বিরোধী দলগুলোকে সংসদে এসে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিরোধী দলের সমালোচনা ও সরকারের বিরোধিতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে তা অবশ্যই সংসদীয় শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে থাকতে হবে। রাজপথের আন্দোলন যেন কোনোভাবেই সংঘাতে রূপ না নেয়, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না—এমন আলোচনা বা ‘গুঞ্জন’ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বিএনপিই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তর ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে।
দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের ‘জঞ্জাল’ দূর করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, রক্তক্ষয় এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিকসহ নাগরিকদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও সরকারের রয়েছে।

