কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে হত্যার পর লাশ খণ্ডবিখণ্ড করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রাম থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের নয়টি খণ্ড উদ্ধার করে পুলিশ। তবে নিহতের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ওই গ্রামের জাহাজকর্মী মফিজুল ইসলামের স্ত্রী। দুই মেয়ের বিয়ের পর তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। অন্যদিকে, একই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্বামী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে থাকতেন লাইলী আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে ফরিদার ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার ভাগ্নে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় একটি প্যাকেট খুলে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এ হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ এবং রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরও তিন যুবক জড়িত বলে তিনি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে উত্তেজিত জনতা লাইলী আক্তারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো লাশের খণ্ডগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের নয়টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মাথা ও পা এখনো পাওয়া যায়নি। আটক লাইলী আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

