চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেও নিজের একাগ্রতা ও মেধা দিয়ে ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেসি ডেইজি মারাক। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের মেয়ে জেসি ডেইজি বাংলাদেশের গারো (মান্দি) সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। পরিবারে শিক্ষার চমৎকার আবহ থাকায় ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় দারুণ মেধার পরিচয় দেন। নেত্রকোনার বিরিশিরি মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকার হলি ক্রস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করা ডেইজি অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছিলেন।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অপেক্ষমাণ তালিকায় থেকেও সুযোগ না মেলায় ডেইজি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। শুরুতে অনিচ্ছা থাকলেও পরবর্তীতে ভাষা, সংস্কৃতি ও গবেষণার জগতে নিজেকে উজার করে দেন। ভাষাবিজ্ঞানের পাশাপাশি তিনি স্প্যানিশ ও জার্মান ভাষাতেও দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও সরকারি চাকুরিতে না গিয়ে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণা পেশাকেই বেছে নেন।
বর্তমানে তিনি মান্দি (গারো) ভাষা, সংস্কৃতি এবং ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করছেন। আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণ ও ভাষাবৈচিত্র্য রক্ষা নিয়ে তার প্রশংসনীয় কাজ দেশজুড়ে সমাদৃত। জেসি ডেইজি মারাকের এই সাফল্য ও সংগ্রাম বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করছে—লক্ষ্য বদলে গেলেও অধ্যবসায় ও শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা একজন মানুষকে ইতিহাসের অংশ করে তুলতে পারে।

