টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক ব্যবহারে ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। একসময়ের সমৃদ্ধ এই কুটির শিল্পের ওপর ভর করে ধনবাড়ী হাটে অর্ধশতাধিক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তাঁদের দিন কাটছে চরম দুর্দিনে। হাটে আগের মতো বাঁশের পণ্যের দোকানও আর বসে না।
ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের স্যান্ডালপুর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী চানমিয়া (৫০) জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানোর পর গত ১০ বছর ধরে তিনি বাঁশের তৈরি পণ্য পাইকারি কিনে হাটে হাটে বিক্রি করছেন। তবে বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় তিন সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। ধানের ডুলি, কুলা, চালুন, ঝাড়ু, মুরগির টোপা ও মাছ ধরার চাইয়ের বদলে বাজার দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের সরঞ্জাম।
স্থানীয় কারিগর হযরত আলী ও ক্রেতাদের মতে, কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি এবং প্লাস্টিকের সহজলভ্যতার কারণে ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। পেশা হারিয়ে অনেক কারিগর ইতিমধ্যেই অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এ কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি প্রণোদনা ও ঋণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

