নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে পুলিশ ভ্যানে তুলে রাখাসহ অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নোয়াখালী জেলা পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নোয়াখালী জেলা পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। যৌথ বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রক্টর এএফএম আরিফুর রহমান স্বাক্ষর করেন।
জানা যায়, বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নোয়াখালী পৌর পার্কের একটি ফুচকার দোকান থেকে নোবিপ্রবির শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের ২০তম ব্যাচের পাঁচ শিক্ষার্থীকে পুলিশ ভ্যানে তুলে প্রায় ২০ মিনিট বসিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে সুধারাম থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা অভিযোগ না জানিয়েই তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এমনকি দুই নারী শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে উঠতে বলা হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধানে একমত হন।
বৈঠকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ভুল বোঝাবুঝির জন্য নোয়াখালী জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে নোবিপ্রবির পক্ষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন, প্রভোস্ট অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান, শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক জি এম রাকিবুল ইসলাম, বিভাগের প্রভাষক মো. মিনহাজুল আবেদীন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিয়াকত আকবর এবং সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম।

