রাজধানী ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা (ই-রিকশা) চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে নগরীর অভ্যন্তরীণ অলিগলি বা অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ই-রিকশাকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নিবন্ধন দেবে না।
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের নীতিমালাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে দ্রুতই তা জারি করা হবে।
নতুন এই নীতিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার নকশা ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো যানবাহন নিবন্ধন পাবে না। এ ছাড়া ই-রিকশার যত্রতত্র তৈরি বন্ধে কারখানাগুলোর জন্য সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। রিচার্জের জন্য চার্জিং পয়েন্টগুলোরও লাইসেন্স লাগবে এবং পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার ট্রাফিক বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী ঢাকাকে উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে মোট ৮টি জোনে ভাগ করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য নির্ধারিত রং থাকবে এবং এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে কাজ করবে এবং ই-রিকশায় ‘জিও-ফেন্সিং’ প্রযুক্তি যুক্ত থাকবে। ঢাকা শহরের বাইরে জেলা শহরের গ্রামীণ এলাকায় দুই, চার ও ছয় যাত্রীবাহী রিকশা নিবন্ধন পেলেও রাজধানী ঢাকায় কেবল দুই ও চার যাত্রীবাহী যানই চলাচলের অনুমতি পাবে।

