ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে সীমান্তে প্রথমবার সমতলের চা বাগান দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। একই সাথে ২২৫ বছরের পূরোনো এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় আমগাছ দেখেও প্রশংসা করেছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগষ্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের নিটালডোবা গ্রামে গ্রীন ফিল্ড টি এস্টেট লিমিটেড এর সমতল চা বাগান দেখতে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তার সাথে স্ত্রী ও কয়েকজন সফর সঙ্গী ছিলেন।
পরে বেলা আড়াইটার সময় সীমান্তে নাগরনদী ঘেষা চা বাগানে উপস্থিত হোন তিনি। চা শ্রমিকদের সাথে চা পাতা তোলা এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
সাংবাদিকদের জানান, প্রথমবার তিনি সমতলে চা বাগান দেখছেন। দেখে খুব লেগেছে তার। এর আগে তিনি শুধু পাহাড়ি অঞ্চলের চা বাগান দেখেছিলেন। সমতলের চা বাগান ও শ্রমিকদের চা পাতা তোলা দেখে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন যারা (চা শ্রমিকরা) কঠোর পরিশ্রম করে চা পাতা তোলেন, তাদের এ ব্যাপারে খুব ভালো ধারণা থাকতে হয়। এখানে না আসলে খুব দ্রুত সাদা, সবুজ আর কালো চায়ের মধ্যে পার্থক্য বের করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। এটি দেখে খুব ভালো লাগছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সফরটা দারুণভাবে উপভোগ করছি।
এর পরে তিনি ২২৫ বছরের পূরোনো এশিয়ার সর্ববৃহৎ সূর্যপুরী আমগাছ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একমাত্র ভারী শিল্প চা কারখানা গ্রীন ফিল্ড টি এস্টেট লিমিটেড পরিদর্শন করেন।
গ্রীন ফিল্ড টি এস্টেট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল ইসলাম হিরু জানান, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এটা ব্যক্তিগত সফর হলেও আমরা খুব আশাবাদি এখানকার উৎপাদিত সবুজ চা (গ্রিন টি) ভালো লেগেছে। আমাকে বলেছেও এ বিষয়ে কথা বলবেন। যেহেতু চীনের সাথে সম্পর্কটা খারাপ। তাই আমাদের এখানকার উৎপাদিন সুলতান চায়ের গ্রিন টি তাদের দেশে রপ্তানির একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে ঘিরে পুরো উপজেলায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছিল আইনশৃঙখলা বাহিনী। প্রতিটি রাস্তায় ট্রাফিক এবং তিনটি স্থানে প্রায় দুই শতাধিক পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

