স্নাতক শেষ করে সনাতন সনদ হাতে পেলেও চাকুরির বাজারে গিয়ে “অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবে” তরুণদের থমকে যাওয়া বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম পরিচিত দৃশ্যপট। লেবার ফোর্স সার্ভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে স্নাতক পাস করা বেকারের সংখ্যা ৮ লাখ ৭৫ হাজার, যেখানে সনদধারীদের বেকারত্বের হার ১৩.৫৪ শতাংশ। তাত্ত্বিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার এই দূরত্ব ঘোচাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)।
তাত্ত্বিক শিক্ষাকে সরাসরি শিল্প-কারখানার বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে সম্প্রতি নতুন ক্যাম্পাসে ‘রাউন্ডটেবিল অন ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ৪২টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন শেষে ৬টি স্বনামধন্য শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে কুবি প্রশাসন।
চুক্তি স্বাক্ষরিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— স্মার্ট সলিউশন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), ড্যাপকো ভেঞ্চারস লিমিটেড, সুপ্রিম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, উইডেভস অ্যান্ড উইল্যাব এবং ফ্লোরিনা কসমেটিকস। এই চুক্তির ফলে কুবির শিক্ষার্থীরা সরাসরি ইন্টার্নশিপ, স্পনসরশিপ ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার পাবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও শিল্প খাতের উন্নত ল্যাব সুবিধা উভয় পক্ষ যৌথভাবে ব্যবহার করতে পারবে।
সমঝোতা চুক্তির বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে বিসিকের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই এর কার্যকর ফল পাওয়া যাবে। কুবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি দেওয়াই শেষ কথা নয়, বিশ্ববাজারের যোগ্য করে গড়ে তোলাই আসল উদ্দেশ্য। সমঝোতার মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ল্যাব সুবিধার ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের কর্মযোগ্যতা দ্বিগুণ হবে।”

