আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের বিরুদ্ধেই এবার উঠল গভীর রাতে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ। তাও আবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায়। ঠাকুরগাঁওয়ে খোদ পুলিশ সদস্যদের এমন একটি জুয়ার আসরে অভিযান চালাতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে হাতের এক আঙ্গুল ভেঙেছে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের। এ ঘটনায় হাতেনাতে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও পালিয়ে গেছেন আরও দুজন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় এসপি কার্যালয়ের উত্তর পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
অভিযানের সময় আসর থেকে পালিয়ে যান পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে কার্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার তথ্য পাচ্ছিল পুলিশ। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারে সদর থানার টহল দল। রাত দেড়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ঘরে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পেছনে ধাওয়া করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে পাওয়া গেছে চারটি মোটরসাইকেলও।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মঙ্গলবার মামলাটি সদর থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এতে ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল। তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক দুজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। কয়েক দিন ধরে আমাদের পুলিশের কিছু বিপথগামী সদস্য জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাচ্ছিলাম। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। সাধারণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কারণ, তারা এখন আমাদের কাছে অপরাধী। তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আটক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে। তারা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। বুধবার তাদের আদালতে তোলা হবে।

