আগামী বছরের ৬ জুনের আগে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা। এইচএসসি পরীক্ষার আগে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া সবাই আগামী বছরের ৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণে আরও কিছু সমন্বয়ের কাজ করতে হবে।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাব পড়েছে, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তাই নির্বাচন আয়োজনের কারণে যেন পরীক্ষায় কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ, সমন্বয় ও দায়িত্ব পালনের জন্য একজন শিক্ষকের অন্তত এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হয়। একই সময়ে শিক্ষকদের মূল্যায়ন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রস্তুতির কাজও থাকে। এসব বিষয়কে যৌক্তিক উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করছে কমিশন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন আয়োজনের বাজেট পরিকল্পনাসহ কিছু আনুষঙ্গিক সমন্বয়ের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব কাজ শেষ করার পর নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।
সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছে না। জানুয়ারিতে কিছুটা অবকাশ থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরু হবে। রোজা শেষে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আগামী বছরের ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকায় তার আগের সময়টুকুই বিবেচনায় নিতে হচ্ছে কমিশনকে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। তবে তখনও সেটিকে চূড়ান্ত সময়সূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের জন্য পাওয়া সময়ের পরিসর খুবই সীমিত। এ সময়ের মধ্যে কীভাবে সব ইউপি নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব, তা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে মতামত পাওয়া গেছে। এসব তথ্য ও মতামত নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডিসেম্বর থেকে নির্বাচন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কমিশন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

