
“কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা, তিনি বারবার অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে গেছেন, তাঁর এই চেতনাই হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ” উল্লেখ করে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরাম আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলুর রহমান বলেন, “কবি কাজী নজরুল বারবার অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে গেছেন। নজরুলের এই চেতনাই হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। যেখানে আমরা সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদকে পরাজিত করে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছি। নজরুল একজন সত্যবাদী ও প্রকৃত মানুষ। তাই তিনি মরে গিয়েও হাজার বছর বেঁচে থাকবেন তার এই চেতনার জন্য। সাম্প্রদায়িকতা হলো ভারতবর্ষের সবচেয়ে সর্বনাশা আদর্শ। এই আদর্শকে যতদিন পর্যন্ত না পরাজিত করা যাবে, ততদিন পর্যন্ত মনুষ্যত্ব আসবে না। তাই একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। আমাদের দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়। আর কেউ কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্মব্যবসা এক নয়।”
এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমা।
