ফরিদপুরে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনুমোদন ছাড়াই ওষুধ তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ি সড়ক এলাকায় শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কারখানাটির ড্রাগ ও ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর লাইসেন্স নবায়ন না করেই অনুমোদন ছাড়াই কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযানে শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি ও সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, কারখানাটিতে ওষুধ তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ ও কেমিস্ট না থাকা এবং বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে। ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাহেদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত বায়েজিদ হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সাইফ হাসান খান বলেন, ‘কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের কোনো আপস নেই। দলের কেউ অন্যায় করে থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

