এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল বড় বহর নিয়ে। ২২টি ডিসিপ্লিনে ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়ে কোচ ও কর্মকর্তারা জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত গেমসে অংশ নেন। সফরে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা পড়েছে মাত্র একটি ব্রোঞ্জপদক, যা উশুতে জিন্নাত আক্তার এনেছেন।
ক্রিকেট, কাবাডি, শুটিং ও আর্চারিতে পদকের আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত এসব খেলা থেকে কোনো পদক আসেনি। আগের হাংঝু এশিয়ান গেমসে পুরুষ ও নারী—দুই দলই দেশকে ব্রোঞ্জ পদক উপহার দিলেও এবার দুটি দলই পদকশূন্য। পুরুষ কাবাডি দল প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও চায়নিজ তাইপেকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই জোরালো করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আয়োজক জাপানের কাছে হেরে পদকের লড়াই থেকে ছিটকে যেতে হয় বাংলাদেশকে।
আর্চারিতেও আন্তর্জাতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যাশা ছিল। তবে একক বা দলগত—কোনো ইভেন্টেই পদকের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি আর্চাররা। পুরুষ হকি দল স্থান নির্ধারণী শেষ ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সপ্তম স্থান নিয়ে আসর শেষ করেছে, যদিও পঞ্চম বা ষষ্ঠ হওয়ার সুযোগ ছিল তাদের সামনে। নারী হকি দল, যা প্রথমবার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছিল, শেষ করেছে নবম হয়ে। শুটিং নিয়েও প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু কোনো শুটার ফাইনালের ধারেকাছেও যেতে পারেননি।
২০২২ হাংঝু গেমসের দুটি ব্রোঞ্জ থেকে এবার নেমে এসেছে একটিতে। আসর শেষে প্রাপ্তির খাতা খতিয়ে দেখলে প্রশ্ন জাগে—দলের উপস্থিতি কি পেশাদার ক্রীড়াবিদদের কোনো মিশন ছিল, নাকি শুধুই এক আনন্দ ভ্রমণ? মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি আর সেলফির ছড়াছড়িতেই মেতে থাকলেন অনেকে। বাংলাদেশের কাছে এখনো এশিয়ান গেমস মানে অংশগ্রহণই বড় কথা, অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে দারুণ গতিতে, তারা চেষ্টা করছিল নিজেদের ‘স্পোর্টিং নেশন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার।

