সাংবাদিক আলিফের মৃত্যুতে কোনো সান্ত্বনাতেই যেন থামছে না স্বজনদের আহাজারি। প্রতিটি আর্তনাদ এখন কেবল বিচারের অপেক্ষায়। দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের একমাত্র দাবি—খুনিদের যেন কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া না হয়।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ‘রূপসী বাংলা (আইপি) টেলিভিশন’-এর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মহব্বত আলী ফকির। তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি একজন সাবেক সেনাসদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন।
শোকাহত পরিবার, নিহতের স্ত্রী ও সাংবাদিক আলিফ ফকিরের দুই শিশু সন্তানের অসহায়ত্বের কথা জানতে পারেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নিহতের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও পরিবারের সকলের জন্য পোশাক প্রদান করেন। এছাড়া পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমাকে চাকরি দেওয়ারও আশ্বাস প্রদান করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার, বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী এম এ জিন্নাহ, অধ্যক্ষ শহীদ খান, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর মাস্টার, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত অনিন্দিতা সাংমা বলেন, “আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। যারা আমার দুই বাচ্চাকে এতিম করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করা হোক; যাতে আর কোনো সন্ত্রাসী কাউকে এভাবে হত্যা করতে না পারে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিয়ে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই যেন দোষীরা পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয়ভাবে আমরা সকলেই এই পরিবারের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।”
সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে দুর্গাপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাংবাদিক, সুধীজনসহ সর্বস্তরের মানুষ খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানববন্ধন শুরু করেছেন।

