জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণভোট অধ্যাদেশ কার্যত বাতিলের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা। এ সিদ্ধান্তকে তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংগঠনটির আহ্বায়ক এস এম সুইট ও সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভ স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়, যা মুখপাত্র সাদীয়া মাহমুদ মীম গণমাধ্যমে পাঠান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন না করে বাতিলের উদ্যোগ জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত সংস্কার অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রচেষ্টায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
তাদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করেছিল। সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জনগণকে এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই গণভোটের ফলাফলকে উপেক্ষা করছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গণভোটের কার্যকারিতা নিয়ে মন্তব্যকেও তারা অগণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করেন।
তারা সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করা হলে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়—গণভোটের ফলাফলকে দ্রুত আইনি স্বীকৃতি দেওয়া, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ বন্ধ করা এবং অতীতের শাসনব্যবস্থা থেকে শিক্ষা নেওয়া।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের ধারাকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

