রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৈশালা বাসস্ট্যান্ড থেকে এক নারীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে তিনি এ ঘটনার শিকার হন। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি নিজেই বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার আসামি রাশেদুজ্জামান রাশেদ (৪০), যিনি মামলার দ্বিতীয় আসামি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পাংশা শহর থেকে তাকে আটক করা হয়। জানা গেছে, পাংশা শহরে তার একটি কসমেটিকস ব্যবসা রয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন হাসিবুর রহমান ওরফে অন্তর (৩২) এবং মো. বরকত মুন্সী (৩৪)।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ব্যক্তিগত কাজে পাংশায় এসে কাজ শেষে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি কুষ্টিয়া ফেরার জন্য বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে থামে এবং তিনজন তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে পাংশার কুলটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির সময় পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকার একটি নির্জন স্থানে তাকে নামিয়ে দিয়ে যায় তারা।
পরে তিনি কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা করতে গেলে ঘটনাস্থল পাংশা হওয়ায় সেখানেই মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি পাংশা মডেল থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি হাসিবুর রহমানের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা কয়েক মাস আগে ভেঙে যায়। এছাড়া অর্থ সংক্রান্ত একটি মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

