লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি ও অনাহারে সুনামগঞ্জের আরও এক তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে একই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
নিহত তরুণের নাম মহিবুর রহমান (২০)। তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে। এর আগে শনিবার জেলা পুলিশ একই ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার ১২ জনের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তারা দালালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে আসছিলেন। তবে মহিবুরের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সোমবার (৩০ মার্চ) একই নৌকায় থাকা এবং প্রাণে বেঁচে যাওয়া আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে ফোনে মহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, মহিবুর ও মারুফ একই সঙ্গে দালালের মাধ্যমে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। বর্তমানে মারুফ গ্রিসের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মারুফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তাল সমুদ্রে যাত্রাপথে নৌকায় তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দেয়। অনাহারে মহিবুর শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন এবং নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে একে একে অন্যরাও প্রাণ হারান।
এর আগে নিহত ১২ জনের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন ছিলেন। সর্বশেষ ছাতকের মহিবুরের মৃত্যুর খবরে নিহতের তালিকা আরও দীর্ঘ হলো।
দালালদের প্রলোভনে পড়ে উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি জমানো তরুণদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারগুলোতে। নিখোঁজ ও নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজনরা।

