জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য, অতিরিক্ত মজুদ ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চালু হয়েছে ‘ফুয়েল কার্ড’ পদ্ধতি। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনের মালিক জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন না। প্রশাসনের কঠোর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে ডিমলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জান। উদ্বোধনের মধ্য দিয়েই বহুল আলোচিত এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ শুরু হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ডের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের পর তিন সদস্যের একটি কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ২ হাজার ৫০০ বৈধ মোটরসাইকেল চালককে তালিকাভুক্ত করে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিশৃঙ্খলা ও জ্বালানি মজুদের প্রবণতা বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার ৩৮টি পেট্রল পাম্পে এখন থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।
এছাড়া প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কালোবাজারি দমন করা যায়।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জান জানান, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক কার্ড ইস্যু করা হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও যানবাহনের সংখ্যা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে একটি টেকসই ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

