ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলমান বিধানসভা নির্বাচনে এবার তারকাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু-তে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখরা সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছেন। তবে চলমান ভোটগণনার চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সব তারকার ভাগ্য সমানভাবে সহায় হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গে একাধিক আসনে তারকা প্রার্থীরা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগর আসনে তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সজল ঘোষের কাছে পিছিয়ে রয়েছেন। ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থী ও নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী-ও বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে পিছিয়ে পড়েছেন, যদিও ২০২১ সালে তিনি এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ আসনে দুই অভিনেত্রীর লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি তৃণমূলের লাভলি মৈত্রকে পেছনে ফেলেছেন। কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্রেও তৃণমূলের শ্রেয়া পাণ্ডে পিছিয়ে রয়েছেন বিজেপির তাপস রায়ের কাছে।
তবে ব্যতিক্রম হিসেবে করিমপুর আসনে তৃণমূলের অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। পঞ্চম দফা গণনা শেষে তিনি প্রায় ১৮ হাজার ভোটে লিড ধরে রেখেছেন।
রাজারহাট-গোপালপুরে লোকসংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সী পিছিয়ে আছেন বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে। অন্যদিকে হাওড়ার শিবপুরে বিজেপির অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
শ্যামপুর কেন্দ্রে বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পিছিয়ে আছেন। একইভাবে টালিগঞ্জে বিজেপির পাপিয়া অধিকারী তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাসের কাছে পিছিয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় তার দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাঝাগম নিয়ে বড় ধরনের চমক দেখাচ্ছেন। তিনি যে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানেই এগিয়ে রয়েছেন এবং তার দল ২৩৪ আসনের মধ্যে শতাধিক আসনে লিড নিয়ে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে আসাম-এ তারকা প্রার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন পৃথ্বীরাজ রাভা, যিনি তেজপুর আসনে এগিয়ে আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয়তা সবসময় ভোটে রূপ নেয় না—এবারের নির্বাচনে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে বেশিরভাগ তারকা প্রার্থী চাপে রয়েছেন, সেখানে তামিলনাড়ুতে তারকা প্রভাব রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

