রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আব্দুর রহিম (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় সূত্র।
নিহত আব্দুর রহিম ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। তিনি গত বছরের অক্টোবর মাসে জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় যান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। পরে তারা জানতে পারেন, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রহিম রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন বলেও দাবি স্বজনদের।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. আফরোজা আক্তার রহিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “রহিম আমার আত্মীয়। তার মৃত্যুর খবর শুনে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি। সরকার যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২ মে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আব্দুর রহিমসহ দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হন। একই হামলায় লিমন দত্ত নামে আরও এক বাংলাদেশি আহত হন এবং তার একটি পা হারানোর খবর পাওয়া গেছে।
একই ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলার রহিমগঞ্জ উপজেলার রিয়াদ রশিদ (২৮) নামের আরেক বাংলাদেশি যুবকও নিহত হন।
নিহতের বাবা আজিজুল হক শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “রহিম যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে।”

