রাঙামাটিতে খাদ্য গুদামে মজুদ থাকা আতপ চালে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। গুদামের একটি স্তুপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখা যায়, চালের সঙ্গে ভিন্ন ধরনের চাল সদৃশ পণ্য মিশ্রিত রয়েছে, যা ওএমএস দোকানে সরবরাহ করা চালের নমুনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই চাল চট্টগ্রামের হালিশহর সিএসডি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত মানের নমুনা উপস্থাপন করতে পারেননি, যা সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নত মানের চাল সরিয়ে নিম্নমানের চাল মজুদের মাধ্যমে কারসাজি করা হয়ে থাকতে পারে। এর ফলে ওএমএস কার্যক্রমে বিতরণ করা চাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই চাল নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।
এদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়েও খাদ্যশস্য খালাস কার্যক্রম চালু রাখার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুপস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তারেকুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় ওএমএস ডিলাররা অভিযোগ করেছেন, গুদাম থেকে ভালো মানের চাল অন্যত্র সরিয়ে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অনিয়ম চালানো হচ্ছে।
জানা গেছে, তারেকুল আলম ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাঙামাটিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি কক্সবাজার ও লক্ষীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অতীতেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কথা জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

