দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উন্নয়ন ও বৈষম্য নিরসনে এ জনপদের ন্যায্য হিস্যা ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রশ্নে সকল রাজনীতিবিদের মধ্যে মতাদর্শিক ঐক্য রয়েছে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা হবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স ফোরাম আয়োজিত ‘কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই’ শীর্ষক উন্নয়ন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনটির সভাপতি ও সিনিয়র সচিব (পিআরএল) ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। এছাড়া কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সংসদ সদস্যরাও সংলাপে অংশ নেন।
মন্ত্রী রেলযোগাযোগ আধুনিকায়ন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। একইসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ ইয়ামিনের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণের আহ্বান জানান।
সরকারি উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যে ১১ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিত-সেবকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরল জীবনযাপনের উদাহরণ হিসেবে প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। খুলনা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অব্যবহৃত জমি কৃষি ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এ অঞ্চলের উন্নয়নই সবার অভিন্ন লক্ষ্য। তিনি আশ্বস্ত করেন, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সরকার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ রেললাইন স্থাপনের বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

