ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে দুই যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোর পরিবেশ। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ধ্বজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন এবং মানিক্যমুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে বিএসএফ মরদেহ দুটি হস্তান্তর করলে রাতেই নিজ নিজ গ্রামে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
রোববার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নবীর হোসেনের মা জাহেরা বেগম পুত্রশোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ছেলের আগে কেন তার মৃত্যু হলো না।
অন্যদিকে কলেজছাত্র মোরছালিনের বাবা হেবজু মিয়া ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে নির্বাক বসে ছিলেন। মোরছালিনের সহপাঠীরা কবর জিয়ারত করতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হেবজু মিয়ার অভিযোগ, শুক্রবার রাতে পাশের বাড়ির কয়েকজন তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে অনেক তরুণ রাতের আঁধারে ঝুঁকি নিয়ে এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছে। মোরছালিনের প্রতিবেশী রিনা বেগম বলেন, বড় চোরাকারবারিরা নিজেদের স্বার্থে তরুণদের ব্যবহার করছে, আর প্রাণ হারাতে হচ্ছে সাধারণ যুবকদের।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া গেছে। তারা হলেন ধ্বজনগর গ্রামের মুক্তার হোসেন, পাথরিয়াদ্বার গ্রামের জুবায়ের হোসেন বাবু এবং মানিক্যমুড়ি গ্রামের বাহার উদ্দিন। তবে তারা কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি স্বজনরা। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধ্বজনগর, পাথরিয়াদ্বার ও মানিক্যমুড়ি সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান হয়ে আসছে। এলাকার অনেক মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে ঘটনার পর রোববার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন মালু মিয়া (৩৮) ও মনির হোসেন (৩৫)।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা জানান, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

