চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে ওই ছাত্রীর মুখে প্লাস্টিকের বস্তা ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্টারও ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর সঙ্গে থাকা ছোট বোন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে জানান স্থানীয় এক ইউপি সদস্য।
গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার সিন্ধুপ্যাপাড়ার পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী নবম ও তার ছোট বোন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
ঘটনাটি ভুক্তভোগী ছাত্রী গোপন রাখতে চাইলেও অসুস্থ হয়ে পড়লে মা-বাবার কাছে বিষয়টি খুলে বলে। ওইদিন বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে বুধবার মধ্যরাতে ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যাপাড়ার রাকিব (২০), মানিক ইসলাম (২০), আবদুর রহিম (১৮) ও উত্তর পাহাড় এলাকার এক কিশোর (১৫)। এ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজন পলাতক। সাতজনের মধ্যে চারজন মুরগি খামারের শ্রমিক।
ছদাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার চাচাতো বোন বুধবার স্কুলে যায়। সকাল ১১টার দিকে তারা পার্শ্ববর্তী বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া গ্রামের সহুদের নালা ও ছদাহার পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় বেড়াতে যায়। এ সময় তাদের ঘুরাঘুরি করতে দেখে কয়েকজন পিছু নেয়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে তারা পাহাড়ের আড়ালে লুকায়। পরে মৎস্য খামার ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তাদের ধরে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যায়। পরে ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তার ছোট বোনকে যৌন নিপীড়ন করা হয়।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। অপরদিকে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

