মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে আট মাস বয়সী শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিক রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় ও ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে স্বামী প্রথমে স্ত্রীকে হত্যা করেন, পরে শিশুসন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌর শহরের আমিরাবাদ এলাকার একটি বাসায় প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ভাড়া থাকতেন সদর উপজেলার পূর্ব কলাগাছিয়া এলাকার যতিন শিকদার ও তার স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে যতিন শিকদারের প্রথম স্ত্রীর ছেলে চিন্ময় শিকদার তার স্ত্রী ইসরাত জাহান সাউদা ওরফে ইশা এবং তাদের আট মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে ঢাকা থেকে মাদারীপুরে আসেন। পরে তারা মিষ্টি বাড়ৈয়ের বাসায় ওঠেন। রাতের খাবার শেষে চিন্ময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন।
দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মধ্যরাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন মিষ্টি বাড়ৈ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে সোমবার (১৮ মে) ভোরে শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা গ্রামের এরশাদ মিয়ার মেয়ে ইসরাত জাহান সাউদার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে চিন্ময় শিকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ইসরাতের নাম পরিবর্তন করে ইশা রাখা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ইশা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন চিন্ময়। এতে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই চাপ থেকেই তিনি প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং পরে আট মাসের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

