নরসিংদীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশ বৈঠকে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হলে অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই কিশোরী। বর্তমানে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বিয়ে শিবপুর উপজেলায় হলেও একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে, প্রাইভেটকার চালক নাইম দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে কিশোরীকে স্বামীর সংসার থেকে আলাদা করে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনা জানাজানি হলে কিশোরীর পরিবার নাইমকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু অভিযুক্ত নানা টালবাহানা শুরু করলে পরিবারটি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশে জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বিয়ের পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রথমে ২০ হাজার, পরে ৩০ হাজার এবং সর্বশেষ ৫০ হাজার টাকায় সমাধানের প্রস্তাব ওঠে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
এ প্রস্তাবের খবর শুনেই সালিশ চলাকালে কিশোরী ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের সংসার ভেঙে দিয়েছে নাইম। এক বছর ধরে বিয়ের কথা বলে সর্বনাশ করেছে। এখন বিচার চাইতে গেলে টাকা দিয়ে সব চাপা দিতে চায়। আমরা কোনো টাকা চাই না, আমরা বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে আউলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, তিনি অল্প সময়ের জন্য সালিশে গিয়েছিলেন এবং পরে চলে আসেন। সেখানে বিয়ে অথবা অর্থের মাধ্যমে সমাধান—এমন দুটি মতামত উঠেছিল বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে সালিশে পুলিশের উপস্থিতির অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা তা অস্বীকার করেছেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম জানান, গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ এক কিশোরীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, থানায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

