টিকা শুধু শৈশবেই নিতে হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। বর্তমান বিশ্বে সংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, দূষণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও কিছু টিকা গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে World Health Organization।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক টিকার কার্যকারিতা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে কিছু টিকার বুস্টার ডোজ বা পুনরায় টিকা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা গ্রহণের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে টিড্যাপ (টিটেনাস, ডিফথেরিয়া ও হুপিং কাশি প্রতিরোধে), যা প্রতি ১০ বছর পর পর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর। ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য এই টিকা উপকারী বলে মনে করা হয়।
হেপাটাইটিস-বি টিকা লিভার ক্যানসার ও লিভার সিরোসিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক ক্ষেত্রে ছোটবেলায় টিকা নেওয়া থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী বয়সে অতিরিক্ত ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।
নিউমোকক্কাল টিকা সাধারণত ৬৫ বছরের পর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে যাদের হাঁপানি, সিওপিডি, ফুসফুসের সমস্যা বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও আগে এই টিকা গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া টাইফয়েডের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়মিত ভ্রমণকারীদের জন্য টাইফয়েড টিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে কোন টিকা কখন এবং কতবার নেওয়া প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও চিকিৎসা ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে। তাই টিকা গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

