সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেত্রী Nipun Roy Chowdhury বলেছেন, স্মার্ট প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে দেশে সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি এবং শিশুদের নিয়ে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরির মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ফলে বর্তমান সময়ে শিশুরা ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নিপুণ রায় বলেন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশে শিশুদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা শিশু নির্যাতনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তি বা নিকটাত্মীয়দের হাতেই শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক পরিবার শিশুদের শ্রমে নিয়োজিত করতে বাধ্য হচ্ছে। গৃহকর্মী ও শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করা অনেক শিশু নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, শিশু আইন-২০১৩ এবং জাতীয় শিশু নীতিসহ প্রয়োজনীয় আইন থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। সামাজিক লজ্জা ও পারিবারিক চাপে অনেক ঘটনা গোপন থেকে যায়, যার ফলে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে নতুন অপরাধে উৎসাহিত হয়।
বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষী সুরক্ষার অভাব এবং প্রমাণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দণ্ডের হার আশানুরূপ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিপুণ রায় বলেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কেবল সরকারের একক দায়িত্ব নয়; পরিবার, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি এমন পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা অভিভাবকদের জানাতে পারে।
তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানান। পাশাপাশি একটি জাতীয় শিশু সুরক্ষা ড্যাশবোর্ড, বিদ্যমান ১০৯৮ হেল্পলাইনের সঙ্গে সমন্বিত মোবাইল অ্যাপ চালু, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে শিশু সুরক্ষা কমিটি গঠন, স্কুলে ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতিটি থানায় শিশুবান্ধব কর্নার স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হলে শুধু তার শরীর নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো একটি ভবিষ্যৎ। শিশুদের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে তাদের শৈশব কাটবে আনন্দ, খেলাধুলা ও শিক্ষার পরিবেশে, ভয়ের মধ্যে নয়।
গোলটেবিল বৈঠকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার Kaiser Kamal, অধ্যাপক Shamima Sultana, অধ্যাপক Nahreen I Khan, ড. Dil Rowshan Jinnat Ara Naznin, অধ্যাপক Firoza Begum, ডা. Md. Nizam Uddin, অধ্যাপক ডা. Saifun Nahar, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি Hasan Hafiz এবং অভিনেতা Ashraf Uddin Ahmed Uzzalসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

