চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার টোল রোডের গলাচিপা এলাকায় সাত বছরের শিশু মো. মাহফুজ হত্যা মামলায় তার খালু আল আমিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অপরাধের আলামত গোপন ও লাশ সরিয়ে ফেলার দায়ে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিশাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা পুতিহারা গ্রামের মৃত জিন্নাত আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন রিকশাচালক। নিহত মাহফুজ হালিশহর হাউজিং এস্টেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, আল আমিন সন্দেহ করতেন তার স্ত্রীর সঙ্গে নিহত শিশুর বাবা মাহবুবের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া মাহবুবের কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে তিন হাজার টাকা পরিশোধ না করায় মারধরের শিকার হন তিনি। এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই শিশু মাহফুজকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে মাহফুজকে সাগর দেখানোর কথা বলে টোল রোডের গলাচিপা এলাকায় নিয়ে যান আল আমিন। বিকেল পর্যন্ত শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। আটক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন গলায় গামছা পেঁচিয়ে মাহফুজকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
ঘটনার পর নিহতের বাবা মাহবুব বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রায় এক দশক পর আদালত এই রায় প্রদান করেন।

