ইরানের সঙ্গে আলোচনাধীন নতুন চুক্তি তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ রুদ্ধ করবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত এই চুক্তি ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত।
ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামার চুক্তি ইরানের জন্য পরমাণু অস্ত্র পাওয়ার একটি সহজ ও মসৃণ পথ তৈরি করেছিল। আমার চুক্তি ঠিক তার উল্টো।’ তিনি আরও দাবি করেন, নতুন চুক্তির আওতায় ইরানকে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না, যেখানে ওবামা প্রশাসন তেহরানকে শত শত বিলিয়ন ডলার সুবিধা দিয়েছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আলোচনাধীন সমঝোতাটি ‘শর্ত পূরণ করলে সুবিধা’—এই নীতির ভিত্তিতে গড়ে উঠছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরান কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে না। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হলেও তা চুক্তির শর্ত পালনের বিষয়টি যাচাইয়ের পরই কার্যকর হবে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে এ বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়সূচি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এদিকে, দুই দেশের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তান জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে ‘ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি’ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, শনিবার (১৩ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

