খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নদী খননের মাটির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভদ্রা নদী খননের পর তোলা মাটি আশপাশে ফেলা হলে তা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের ওপর এসে পড়ে। কোথাও কোথাও মাটির বিশাল স্তুপ জমে গিয়ে ঘরবাড়ির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কিছু ঘর ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলার চুকনগর, খর্নিয়া ও কাঁঠালতলা এলাকার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটির চাপে ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে, দরজা-জানালা নষ্ট হয়েছে এবং কয়েকটি টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকটও তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নদী খননের মাটি ঘরের পাশে ফেলা ও পরে ধীরে ধীরে তা সরানোর কারণে ঘরের ভেতরে কাদামাটি ঢুকে পড়ছে। অনেক পরিবার নিজেদের উদ্যোগে মাটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বাসিন্দা ময়না বলেন, মাটির চাপে ঘরের পিলার ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ঘরের কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, মাটি গড়িয়ে পড়ায় কিছু ঘরের আশপাশে সমস্যা হয়েছে এবং চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে। তবে কোনো ঘর পুরোপুরি ধসে পড়েনি। দ্রুতই মাটি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে আপার ভদ্রাসহ পাঁচটি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার, যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কাজ করছে।

