বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে আবারও শীর্ষে উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৮ হলেও, অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মেসি। এছাড়া ফাইনালে ওঠায় তার সামনে আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায় নিজের পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিজে গোল না করলেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। ম্যাচটিকে ঘিরে অনেকেই ১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’-এর সঙ্গে তুলনা করে এবার ‘ফুট অব গড’-এর উপমা দিচ্ছেন। দলের আক্রমণভাগে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন বয়স কেবল একটি সংখ্যা।
গত মাসেই ৩৯ বছরে পা রাখা মেসি এবারের আসর শুরু করেছিলেন হ্যাটট্রিক দিয়ে। এরপর গ্রুপ পর্বে আরও তিনটি গোল করেন তিনি। দ্বিতীয় রাউন্ড ও শেষ ষোলোতেও গোলের দেখা পান। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে না পারলেও এই দুই ম্যাচে তিনটি অ্যাসিস্ট করেন। সব মিলিয়ে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন এলএম১০।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি ম্যাচ শেষে বলেন, ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর ইংল্যান্ডের রক্ষণাত্মক কৌশল এবং মেসিকে পর্যাপ্তভাবে মার্ক না করাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, মেসি এখনো নিজের সেরা ফর্মে রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পের ঝুলিতেও রয়েছে ৮ গোল, তবে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৩। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজের পরিসংখ্যান বাড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ রয়েছে ফরাসি অধিনায়কের সামনে।
এদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের গোলসংখ্যা ৬টি করে। গোল্ডেন বুট জিততে হলে তাদের শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করতে হবে, যা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। ফলে এবারের গোল্ডেন বুট ও সেরা খেলোয়াড়ের লড়াই মূলত লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

