টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলিভদ্র দাখিল মাদরাসা ও হযরত খাব্বাব (রাঃ) দারুল উলূম মাদরাসা। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান দুটি এলাকার শিশু-কিশোরদের কুরআন, হিফজ, ইসলামী জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
১৯৯৮ সালে আলহাজ্ব মরহুম ইমাম আলী শিকদার, পরিচালক (টিএনটি), বাংলাদেশ—এর উদ্যোগে বলিভদ্র দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হযরত খাব্বাব (রাঃ) দারুল উলূম মাদরাসা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে প্রতিষ্ঠান দুটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত অবহেলিত এলাকার শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, হিফজ ও প্রাথমিক ইসলামী শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও ইসলামের সঠিক আদর্শে গড়ে তুলতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বলিভদ্র দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ও সভাপতি, বলিভদ্র ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান এবং ধনবাড়ী বিআরডিবির নাজিম উদ্দীন মাস্টার বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি অনুদান অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারি সহায়তা পেলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও স্থায়ী হবে।
হযরত খাব্বাব (রাঃ) দারুল উলূম মাদরাসার মুহতামিম মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে মাদরাসার হিফজ বিভাগে ৪৫ জন এবং নূরানী বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছেন ছয়জন শিক্ষক। সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে ভবন নির্মাণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মানী এবং শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহ থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিজের ও অন্যদের চিরস্থায়ী আখেরাত সুন্দর করার চিন্তা থেকেই শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিভাবকরাও প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও যেন নিজেদের মূল্যবোধ ও স্বকীয়তা বজায় রেখে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই সন্তানদের প্রস্তুত করতে চান তারা।
স্থানীয়দের আশা, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠান দুটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারবে।

