দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে ৩১২টি শিশু বেড়ে উঠছে। কারাগারের আবদ্ধ পরিবেশেই তাদের শৈশব কাটছে। কারাগার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব শিশুর মধ্যে ১৬০ জন ছেলে ও ১৪৬ জন মেয়ে। কোনো কোনো মায়ের একাধিক সন্তানও কারাগারে রয়েছে।
গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার-৩–এ ৫২টি শিশু রয়েছে ৪৮ জন নারী বন্দীর সঙ্গে। তাদের জন্য রয়েছে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, যেখানে পড়াশোনা, খেলাধুলা, গান, নাচ, ছবি আঁকা ও প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। তবে দেশের ৭৪টি কারাগারের মধ্যে মাত্র ২৫টিতে ২৬টি দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। ফলে অন্য কারাগারে থাকা শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ সীমিত।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাবিধি অনুযায়ী ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা মায়ের সঙ্গে থাকতে পারে। এরপর বাইরে দেখাশোনার কেউ না থাকলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু পরিবারে তাদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর স্বাভাবিক মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য পরিবার ও সমাজের পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই মায়ের সঙ্গে থাকার সুযোগ বজায় রেখেও কারাগারে থাকা শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, খেলাধুলা, চিকিৎসা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

