নারী পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের জন্য পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০ জুলাই ইউআইইউর স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের (এসওবিই) উদ্যোগে নেক্সাস সেমিনার সিরিজের তৃতীয় পর্ব হিসেবে ‘নারী পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের জন্য ইএসজি ও জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) সিনিয়র এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট ড. আফিফা রাইহানা। তিনি বলেন, ইএসজি ও জলবায়ু-সম্পর্কিত বিভিন্ন আবশ্যকতা ব্যবসায়িক কৌশল, বিনিয়োগ, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতার ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ফেলছে।
তিনি জানান, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইএসজি রিপোর্টিং, টেকসই অর্থায়ন, পরিবেশগত পরামর্শ ও জলবায়ু-ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো ক্ষেত্রে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে কারিগরি জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং নীতিমালা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ড. রাইহানা আরও বলেন, অর্থায়ন, তথ্য ও কারিগরি দক্ষতার সীমাবদ্ধতার কারণে নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো জটিল পরিবেশগত ও সামাজিক বিধিবিধান পরিপালনে তুলনামূলক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে যথাযথভাবে এসব মানদণ্ড পরিপালন করা গেলে ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি করপোরেট সরবরাহ শৃঙ্খল, রপ্তানি বাজার, সরকারি ক্রয় ও টেকসই অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে পারে।
মূল বক্তব্যের পর স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও শিক্ষা খাতের পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায়িক পরিবেশের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে পরিচিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ফ্রান্সভিত্তিক মেনার্ড গ্রুপের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার ফাহিমা শাহাদাত পুরুষ-প্রধান নির্মাণশিল্পে নারীদের পেশাগত ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। নারী পেশাজীবী ও নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্যার জন উইলসন স্কুলের প্রিন্সিপাল সাবরিনা শহীদ শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই পরিবেশগত দায়বদ্ধতা, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে স্কুল পর্যায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
নেক্সাস সেমিনার সিরিজের আহ্বায়ক ও মডারেটর প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, শিল্প বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি করে একাডেমিক শিক্ষা ও পেশাগত বাস্তবতার মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউআইইউর বিবিএ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর প্রফেসর ড. সালমা করিম। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও করপোরেট খাতের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নোত্তর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শেষ হয়।

